ভারতে গীতা পাঠে সেরা মুসলিম কিশোর

শ্রীমদ্ভগবদগীতা বা গীতা হিন্দু ধর্মগ্রন্থ। এই গ্রন্থ নিয়ে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ১৬ বছর বয়সী এক মুসলিম কিশোর। পাঁচ হাজারের বেশি প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এ সফলতা পেয়েছে কিশোর আবদুল কাগজি।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের জয়পুরে হরে কৃষ্ণ মিশন ও অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন যৌথভাবে বার্ষিক গীতা কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে পাঁচ হাজারের বেশি প্রতিযোগীর সঙ্গে অংশ নেয় জয়পুরের কাগজি মহল্লার সাঙ্গানের এলাকার আবদুল কাগজি। ছয় মাস ধরে দুই পর্বের এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এর চূড়ান্ত পর্বেই প্রথম স্থান অর্জন করে মুসলিম এই কিশোর।

নবম শ্রেণিপড়ুয়া আবদুল কাগজির গীতা পাঠের প্রতিভায় বিস্মিত প্রতিযোগিতার বিচারকেরা। তার স্তুতি গান ও শ্লোক শুনে রীতিমতো মুগ্ধ হয়ে গেছেন তাঁরা। এ বছর গীতা পাঠের মূল থিম ছিল—‘শ্রীকৃষ্ণকে জানো’। সংস্কৃত ভাষায় এই থিমে গীতা পাঠ করে আবদুল কাগজি ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব পায়।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, আবদুল কাগজি প্রতাপনগরে ডাকিং সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের ছাত্র। সে হরে কৃষ্ণ মন্দিরে রাজস্থানের পরিবহনমন্ত্রী প্রতাপ সিং কাছরিয়াওয়াসের কাছ থেকে গীতা পাঠে সেরার পুরস্কার গ্রহণ করে।

আবদুল কাগজি জানায়, ‘লিটল কৃষ্ণ’ নামে টিভিতে একটি কার্টুন সিরিজ দেখে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি তার আগ্রহ বেড়েছে। এ ছাড়া মথুরা নাথের লেখা ‘কৃষ্ণ’ বই পড়ে সে গীতা পাঠ শিখেছে। আবদুল কাগজির বাবা আবদুর কলিম মুদি ব্যবসায়ী। নিজেদের তিনতলা একটি বাড়িতে তিনি এ ব্যবসা করেন।

আবদুল কাগজি বলেন, ‘বাবা বলেছেন, তোমার মনকে অনুসরণ করো। মন যা চায় তা–ই করবে। তিনি কোনো বিশ্বাস বা চর্চায় বাধা দেননি। আধ্যাত্মবাদের বিভিন্ন ধারা নিয়ে পড়াশোনা আমি বাবার মোবাইল দিয়েই করেছি।’

এ প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বের কুইজ অনুষ্ঠিত হয় গত সেপ্টেম্বরে। এখান থেকে ৫০টি স্কুলের শিক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হয়। পরে সেখান থেকে প্রায় ৬০ জনকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়।

হরে কৃষ্ণ মিশনের হেড অব কালচারাল এডুকেশন সার্ভিসেস স্বামী সিদ্ধ স্বরূপ দাসা বলেন, কাগজির স্তুতি গান ও শ্লোক শুনে বিচারক প্যানেল মুগ্ধ হয়েছেন। স্বরূপ দাসা আরও বলেন, ‘এর আগেও শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ হরে কৃষ্ণ মিশনের অন্য দুটি প্রতিযোগিতায় কাগজি অংশ নিয়েছিল। তার বাবা তাকে মূল্যবোধ শিখিয়েছে।

Leave a Reply